কথাটি শুনতে অন্যরকম শোনালেও এই ব্যাপারটি আমাদের সমাজে খুব একটা বিরল নয়। প্রায়ই জমি কেনার পর শুনা যায়, এই জমি আগেই বিক্রি হয়েছে। তাই দুই পক্ষই টাকা খরচ করে জমি কিনে বিপাকে পড়ে যায়।

২ পক্ষ হয়ে যায় একে অন্যের শত্রু। অথচ দুই জনই ক্রেতা হিসেবে সঠিক। এতে করে শুরু হয় দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব। বছরের পর বছর এই জমি নিয়ে ঝামেলা লেগেই থাকে। অন্যদিকে সুবিধা পেয়ে যায় প্রতারক বিক্রেতা।

প্রতারক একই জমি ২ জনের কাছে বিক্রি করে ডাবল টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায়। আর ২ ক্রেরা পড়ে থাকে অশেষ হয়রানীতে। তাই আমাদের সবারই একই জমি ২ বার বিক্রি হয় কিনা তা জেনে জমি কেনা উচিত।

নইলে কোন প্রতারক আপনার নিকট পূর্বে বিক্রি করা জমি আবার বিক্রি করে টাকা নিয়ে যাবে। এতে করে আপনার আর্থিক, সামাজিক ও মানষিক সব প্রকার ক্ষতির মুখে পড়বেন।

আজ আমরা আপনাদের সাথে কেউ একই জমি ২ বার বিক্রি করলে কি করা উচিত, কিভাবে সাবধান হতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা করবো। এতে করে আপনারা জমি ২ বার বিক্রির প্রতারনার হাত থেকে রক্ষা পাবেন। আসুন দেখে নিই, কিভাবে আপনার একই জমি ২ বার বিক্রি হওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারি।

দলিল করার সাথে সাথে জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করে ফেলুন

আপনি জমি কেনার দলিল সম্পন্ন হবার পরপরই জমি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতে হবে। জমি রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে আপনার কেনা জমি অন্য কারো কাছে বিক্রি করতে পারবেনা।

আর কারো কাছে প্রতারনার মাধ্যমে বিক্রি করলেও আপনার নামে রেজিস্ট্রেশন থাকার সুবাধে জমিতে আপনারই অধিকার থাকবে।

নিয়মিত জমির খাজনা দিন

জমি রেজিস্ট্রেশন করা জমি নিজের নামে মিউটেশন করার পর জমির জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি দিয়ে নিয়মিত খাজনা প্রদান করতে হবে। নিয়মিত খাজনা প্রদান না করলে, একটা সময় এই জমি বেহাত হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই নিয়মিত খাজনা দিয়ে সেই খাজনার রশিদ নিজের কাছে রেখে দেয়া জমি মালিকানার গুরুত্বপূর্ন কাগজ হিসেবে কাজ করে থাকে।

দলিল করার পরই রেজিস্ট্রেশন করতে না পারলে সেক্ষেত্রে কি করনীয়:

জমির দলিল করার সাথে সাথে দলিল সাব রেজিস্টার অফিসে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারলে, আপনাকে দলিল সম্পন্ন হবার ৪ মাসের মাঝে দলিল রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আপনি ৪ মাসের মাঝে দলিল রেজিস্ট্রেশন করতে না পারলে, পরবর্তী সময়ে সরকার নির্ধারিত বিলম্ব ফি দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

প্রথম ক্রেতাই হবেন জমির প্রকৃত মালিক

একই জমি ২ বার বা ওবার যাই বিক্রি হোক না কেন, সেই জমি যে ব্যক্তি প্রথমবার ক্রয় করেছেন, তিনিই সেই জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে বিবেচিত হবেন, পরবর্তীতে ওই জমি যতবারই বিক্রি হোক না কেন, শুধুমাত্র প্রথম ক্রেতাই এই জমি বৈধ মালিকানা লাভ করবেন। তাই, জমি কেনার সময় আগে কেউ এই জমি ক্রয় করেছে কিনা তা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরী।

দলিল রেজিস্ট্রেশনের পরেই জমি মিউটেশন করে ফেলুন

জমি মিউটেশনের মাধ্যমে জমি আপনার নামে রেকর্ড করা হয়। তাই আপনি জমির রেজিস্ট্রেশনের পরপরই জমি আপনার নামে মিউটেশন করে নিতে হবে। এতে করে সরকারীভাবে রেকর্ড বইয়ে জমিটি আপনার নামে রেকর্ড হবে। তাই জমি কেনার পরপরই মিউটেশন করা দরকারী। তাহলে আপনার কেনা জমি অন্য কেউ পুনরায় বিক্রি করতে পারবেনা। 

বিঃ দ্রঃ এটি কোন আইনি উপদেশ না, এটি শুধু মাত্র সাধারণ জ্ঞানের জন্য। এখানের কিছু লেখা অন্য জায়গা থেকে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।